সাবমেরিন কেবল প্রকল্পটি কোন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম?

প্রশ্ন: সাবমেরিন কেবল প্রকল্পটি কোন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম?

সঠিক উত্তর: ডাক ও টেলিযােগাযােগ মন্ত্রণালয়

সাবমেরিন কেবল প্রকল্পটি কোন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম?

সাবমেরিন কেবল কি

সাবমেরিন কেবল হচ্ছে সমুদ্রের পানির নিচে রাখা কেবল। এই কেবল বা তার একদেশ থেকে আরেক দেশে না কোনো প্রান্তে যুক্ত থাকে। এই তারের মাধ্যমে তথ্য স্থানান্তর হয়ে থাকে।

মজার ব্যাপার হলো, এর সাথে সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজের কোনো সম্পর্ক নেই। সাবমেরিন কেবলের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে সহজের দ্রুত গতির তথ্য প্রেরণ।

অন্যান্য সাধারণ কেবল বা তার দিয়ে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠানো হলেও সাবমেরিন কেমন দিয়ে আলোক সংকেত পাঠানো হয়। এই আলোক সংকেত দিয়েই দ্রুত গতির তথ্য স্থানান্তর সম্পন্ন হয়।

আরো জানুন বাংলাদেশের সরকারি ইপিজেড কয়টি?

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠানো বাদ দিয়ে আলোক সংকেত কেন? এর পেছনে বেশ কিছু কারণ আছে।

বিদ্যুতের পরিবর্তে আলো সংকেত রূপে পাঠালে কোনো প্রকার নয়েজ হয় না। তাই আলোক সংকেত পাঠানো সাশ্রয়ী।

প্রায়শই সাবমেরিন কেবলে সরু কাচের তন্তু ব্যবহার করা হয়। এই কাচের তন্তু দিয়ে আলো চলাচল করে। এই আলোই তথ্য পরিবহন করে।

এই পদ্ধতিতে তথ্য স্থানান্তর ঘটে খুব দ্রুত, প্রায় আলোর গতিতে। সাবমেরিন কেবল দিয়েই বর্তমানে আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান করছি।

বাংলাদশের সাবমেরিন কেবল

২০০১ সালের বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বাের্ড সাবমেরিন কবলের ওপর একটি খসড়া রিপাের্ট ডাক ও টেলিযােগাযােগ মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করে। সে আলােকে ২০০২ সালে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক অর্থায়নে সম্মত হয়।

২০০৫ সালে প্রকল্প বাস্তবায়িত হয় এবং ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সাথে ইউরােপভুক্ত ১৪ টি দেশ এবং ১৬ টি সংস্থা সি-মি-ইউ-৪ নামের ২২ হাজার কিলােমিটার বিস্তৃত অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হয় বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এই প্রকল্প সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ২৭ মার্চ ২০০৪ এবং ২১ মে ২০০৬ কক্সবাজারের ঝিলংজায় ল্যান্ডিং স্টেশন উদ্বোধন করা হয়। এটিই দেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কেবল অপারেটর।

তো, সাবমেরিন কেবল প্রকল্পটি কোন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম? প্রশ্নটির সঠিক উত্তর হচ্ছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

আর বাংলাদেশ সি-মি-উই-৫ প্রকল্পের মাধ্যমে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হয় ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে।

প্রশ্নের উৎস

সাবমেরিন কেবল প্রকল্পটি কোন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম? প্রশ্নটি ২৬ তম বিসিএসে এসেছিল। তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কেন না তথ্য প্রযুক্তি এখন অনেক চাকরি পরীক্ষায় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র উইকিপিডিয়া

শেয়ার করুন

Leave a comment