রাজশাহী বিভাগের জেলা সমূহ

বাংলাদেশের আটটি বিভাগের মধ্যে তৃতীয় বিভাগ হচ্ছে রাজশাহী। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ১৮,১৫৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট। চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের পর এই বিভাগটি ১৮২৯ সালে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজশাহী বিভাগে কয়টি জেলা রয়েছে? সঠিক উত্তর হচ্ছে আটটি জেলা রয়েছে। চলুন জেনে নেই রাজশাহী বিভাগের জেলা সমূহ কি কি এবং তাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।

রাজশাহী বিভাগের জেলা সমূহ

১. চাঁপাইনবাবগঞ্জ

আমের দেশ হিসেবে বিখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত রাজশাহী বিভাগের একটি জেলা। অনেকেই এই জেলাটিকে শুধু চাঁপাই নামে সম্বোধন করে থাকে। পূর্বে এই জেলার নাম ছিল নবাবগঞ্জ, যা পরবর্তীতে ২০০১ সালে পরিবর্তন করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রাখা হয়। এই জেলার মোট আয়তন ১,৭৪৪ বর্গ কিলোমিটার।

রাজশাহী বিভাগের জেলা সমূহ

২. নাটোর

১৮৯৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট নাটোর জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৪ সালে। আয়তনের দিক থেকে নাটোরের অবস্থান ৩৬ তম। নাটোর জেলার পশ্চিমে রয়েছে রাজশাহী। রানী ভবানী রাজপ্রাসাদ হচ্ছে নাটোর জেলার এক অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়াও রয়েছে চলনবিল, যা এই জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় বিল। রেলপথ ও সড়কপথের ব্যবস্থা ভালো থাকলেও নদী পথে ঢাকার সাথে নাটোর জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা অতটা ভালো না।

৩. নওগাঁ

১১ টি উপজেলা নিয়ে ১৯৮৪ সালের নওগাঁকে প্রথম জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। রাজশাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত এই জেলাটি মোট আয়তন ৩,৪৩৫ বর্গ কিলোমিটার। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, বলিহার রাজবাড়ী, কুসুম্বা মসজিদ, রঘুনাথ মন্দির সহ আরো অনেক দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র এই জেলায় রয়েছে।

৪. জয়পুরহাট

জয়পুরহাট জেলার মোট আয়তন ৯৬৫ বর্গ কিলোমিটার। ১৯৮৪ সালে জয়পুরহাটকে জেলায় রূপান্তর করা হয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বসবাস এই জয়পুরহাট জেলায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ওরাওঁ, মুন্ডা, মালো, মাহাতো, সাঁওতাল, সিং, মাহলী প্রভৃতি আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত জনগোষ্ঠী।

৫. পাবনা

রাজশাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত পাবনা জেলা বাংলাদেশের মধ্যভাগে অবস্থিত। এই জেলার মোট আয়তন ২,৩৭১ বর্গ কিলোমিটার। ১৯৩২ সালে পাবনা জেলাটি গঠিত হয়। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালন শাহ সেতু, জোর বাংলা মন্দির পাবনার কিছু উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান।

৬. সিরাজগঞ্জ

যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত সিরাজগঞ্জ জেলার মোট আয়তন ২৪৯৭ বর্গ কিলোমিটার। ১৯৮৪ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম হয়েছিল মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী।

৭. বগুড়া

করতোয়া নদীর কোল ঘেঁষে অবস্থিত বগুড়াকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলা হয়। প্রাচীন ইতিহাস সমৃদ্ধ এই বগুড়া এক সময় পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী ছিল, যা বর্তমানে মহাস্থানগড় নামে পরিচিত। বগুড়া জেলার আয়তন ১৯২০ বর্গ কিলোমিটার। বগুড়ার দই বাংলাদেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয়।

৮. রাজশাহী

রাজশাহী উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় শহর। পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই জেলাটির মোট আয়তন ২৪০৭ বর্গ কিলোমিটার। রেশমি কাপড়ের জন্য রাজশাহী শহর বিখ্যাত। এজন্য অনেকেই রাজশাহীকে রেশম নগরী বলে আখ্যায়িত করে থাকে। রাজশাহী জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পুঠিয়া রাজবাড়ি, বাঘা মসজিদ, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, পদ্মা গার্ডেন ইত্যাদি। রাজশাহী শহরটি শিক্ষানগরী নামেও বেশ সুপরিচিত।

আরো পড়ুন

রাজশাহী বিভাগের জেলা সমূহ খাদ্যে শস্যে ভরপুর। এছাড়া ফল-মূল ও মাছের প্রাচুর্যতা দেখা যায় এই অঞ্চলে। বগুড়া ও রাজশাহীর মতো দুইটি শিক্ষানগরী এই অঞ্চলেই অবস্থিত।

তথ্যসূত্র উইকিপিডিয়া

Leave a comment