বিসিএস পরীক্ষা কতবার দেওয়া যায়?

বর্তমানে বাংলাদেশে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা শেষ করে প্রথম পছন্দ থাকে বিসিএস ক্যাডার হওয়া। বিসিএস ক্যাডার বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর চাকরি। অথচ অনেকেই জানেন না বিসিএস পরীক্ষা কতবার দেওয়া যায়! আজকে আমরা এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

বিসিএস এমন একটি পরীক্ষা যার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডার, পুলিশ ক্যাডার, আনসার ক্যাডার, শিক্ষা স্বাস্থ্য ক্যাডার, পররাষ্ট্র ক্যাডার ইত্যাদিতে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়।

দেশে চাকরি প্রার্থীদের মাঝে বিসিএস সবার পছন্দে থাকার প্রধান কারণ হচ্ছে– কেউ বিসিএস ক্যাডার হলে তাকে সমাজে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হয়। এছাড়া বিসিএস ক্যাডারদের বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি যেকোনো চাকরির চেয়ে তুলনামূলক বেশি।

বিসিএস পরীক্ষা কতবার দেওয়া যায়

বিসিএস পরীক্ষা মোটামুটি তিনটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে একটি নির্বাচনী পরীক্ষা হয়, যা ২০০ নম্বরের একটি এমসিকিউ পরীক্ষা হয়ে থাকে। এই নির্বাচনী পরীক্ষাটিতে পাশ করলে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়।

লিখিত পরীক্ষা ৯০০ মার্কের হয়ে থাকে। লিখিত পরীক্ষায় টিকলে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের আবার ২০০ নম্বরের ভাইবায় ডাকা হবে। লিখিত ও ভাইবা পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরকে যোগ করে মেধা তালিকা প্রণয়ন করা হয়।

মেধা তালিকায় সামনের দিকে যারা অবস্থান করে তাদেরকেই বিসিএস ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়। এখন আপনাদের মনে অনেকের প্রশ্ন আসছে যে বিসিএস পরীক্ষা কতবার দেওয়া যায়। তো চলুন এবার আমরা প্রশ্নটির সঠিক উত্তর খুঁজে বের করার চেষ্টা করি।

বিসিএস পরীক্ষা কতবার দেওয়া যায়?

বিসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসি এর অধীনে। বিসিএস পরীক্ষার সকল নীতি নির্ধারণ করে এই পিএসসি। অন্যান্য বিষয়ের মত পিএসসি বিসিএস পরীক্ষা কতবার দেওয়া যায় সেটি সম্পর্কেও সুস্পষ্টভাবে ধারণা দিয়ে রেখেছে।

কোনো প্রার্থী নির্দিষ্ট সংখ্যক বার বিশেষ পরীক্ষা দিতে পারবেন এমনটা নয়। যদি প্রার্থীর বয়স ২১ থেকে ৩০ বছর বয়স হয়ে থাকে, তবে এর মধ্যে যতগুলো বিসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, সে সবগুলোই তিনি অংশ নিতে পারবে।

অর্থাৎ ৩০ বছর পূরণ হওয়া পর্যন্ত একজন প্রার্থী প্রায় সকল বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। তবে বলে রাখা ভালো, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিবন্ধী কোটায় যাদের আছে তারা ৩২ বছর পর্যন্ত বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

আরো জেনে নিন বিসিএস ক্যাডার কয়টি ও কি কি?

আলনার মনে যদি প্রশ্ন আসে যে বিসিএস পরীক্ষা কতবার দেওয়া যায় তবে উত্তর হচ্ছে যে শুধু অনার্স পাস করার পর থেক্ব আপনার বয়স ত্রিশ বছর হওয়া পর্যন্ত আপনি বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

এই সময়ের মাঝে যতগুলো বিসিএস পরীক্ষা হবে সবগুলোতেই অংশ করতে পারবেন। আবার যারা যাদের যাদের মুক্তিযোদ্ধা কোটা বা প্রতিবন্ধী কোটা রয়েছে তারা ৩২ বছর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সকল বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

আরো পড়ুন অনার্স ও ডিগ্রির মধ্যে পার্থক্য কি?

এখানে আরো যোগ করা প্রয়োজন যে যারা বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের জন্য যারা বিসিএস পরীক্ষার দিবেন তাদের বয়সের সর্বোচ্চ সীমা ৩২ বছর করা হয়েছে।

এর পেছনে মূল কারণ হচ্ছে যে অনার্সের পরেই সাধারণত বিসিএস পরীক্ষা দেওয়া যায়। তবে যারা মেডিকেল নিয়ে পড়াশোনা করেন তাদের এমবিবিএস করতে পাঁচ বছর লাগে এবং সাথে এক বছর ইন্টার্নশিপ করতে হয়।

অর্থাৎ তাদের পড়ালেখা শেষ ছয় বছর লাগে। অপরদিকে, যারা অনার্স করেন তাদের মাত্র চার বছর বয়সী কোর্স করলেই বিসিএস পরীক্ষার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায়।

যেহেতু মেডিকেল পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত দুই বছর পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকে, তাই তাদেরকে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য আরো অতিরিক্ত দুই বছর সময় দেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন