ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক ইউনিট পাশ নম্বর

স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়! প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার স্বপ্ন দেখে থাকে। আজকে আমরা জানতে চলেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক ইউনিট পাশ নম্বর কত। আজকের লেখাটি অতি গুরুত্বপূর্ণ, কেননা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পূর্বশর্তই হচ্ছে পাশ করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক ইউনিট পাশ নম্বর

অনেকে খুব ভালো নাম্বার পেয়েও ঢাবিতে চান্স পায় না, শুধুমাত্র একটি বিষয়ে ফেল করার জন্য। তাই তোমাকে নিশ্চয় পাশ নাম্বারের হিসাব মাথায় রাখতে হবে।

আজকের এই লেখায় আমি আলোচনা করবো ক ইউনিটের পাশ নাম্বার নিয়ে। আশা করছি এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ার পর পাশ নাম্বার নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক ইউনিট পাশ নম্বর

তোমরা জানো, ক ইউনিট হচ্ছে বিজ্ঞান ইউনিট। এখানে চারটি বিষয়ে উত্তর দাগাতে হয়। বিষয়গুলো হচ্ছে–

  • পদার্থবিজ্ঞান
  • রসায়ন
  • উচ্চতর গণিত
  • জীববিজ্ঞান

তবে কোনো শিক্ষার্থী চাইলে তার চতুর্থ বিষয় উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞানের পরিবর্তে বাংলা ও ইংরেজি এই দুইটি বিষয়ের মধ্যে একটি বিষয়ে উত্তর করতে পারবেন। মনে রাখুন, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে উত্তর করা কিন্তু বাধ্যতামূলক।

তোমরা জেনে থাকবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯ সাল থেকে এমসিকিউয়ের পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষাও নেওয়া হচ্ছে। তাই তোমাকে এমসিকিউ ও লিখিত দুই অংশেই পাশ নাম্বার তুলতে হবে।

এমসিকিউতে পাশ নাম্বার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক ইউনিট ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী চারটি বিষয়ে ১৫ টি করে মোট ৬০ টি এমসিকিউ ছিল। প্রতিটি এমসিকিউয়ের জন্য ১ নাম্বার করে বরাদ্দ ছিল। আর এমসিকিউ অংশে পাশ নাম্বার হচ্ছে ২৪।

তুমি চার বিষয়ে ২৪ পেলেই পাশ বলে গণ্য হবে। আলাদাভাবে কোনো বিষয়ে পাশ নাম্বার নেই। অর্থাৎ যদি তুমি কোনো বিষয়ে শূণ্য পেয়েও অন্য তিন বিষয়ে ২৪ বা তার বেশি নাম্বার পাও, সেক্ষেত্রেও তুমি পাশ বলে বিবেচিত হবে।

তবে ২৪ নাম্বার পেয়েই চান্স পাওয়ার আশা করা বোকামি। তোমাকে প্রতিটি বিষয়ে ভালো নাম্বার পেতে হবে। কেননা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কিছু সাবজেক্ট রয়েছে যেগুলো পেতে হলে তোমাকে নির্দিষ্ট বিষয়ে ভালো নাম্বার তুলতে হবে।

আবার লিখিত খাতা সকল শিক্ষার্থীদের কাটবে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মোট আসনের কমপক্ষে ৫ গুণ খাতা কাটাবে। তাই যারা যারা এমসিকিউয়ে ভালো নাম্বার তুলবে, তাদের খাতাই কাটা হবে। সেজন্যে তোমাকে এমসিকিউয়ে ভালো নাম্বার তুলতেই হবে, নয়তো তোমার লিখিত খাতাই কাটা হবে না।

লিখিত পরীক্ষার পাশ মার্ক

২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী লিখিত অংশে বরাদ্দ ছিল ৪০ নাম্বার। চারটি বিষয়ে প্রতিটি বিষয়ে ১০ মার্ক করে লিখিত প্রশ্ন ছিল। এমসিকিউ অংশের মতো লিখিত অংশেও বিষয়ভিত্তিক আলাদা পাশ নাম্বার নাই। অর্থাৎ তোমাকে চারটি বিষয় মিলে পাশ করতে হবে। লিখিত অংশে পাশ নাম্বার হচ্ছে ১২। ১২ নাম্বার পেলেই তুমি পাশ।

মোট পাশ মার্ক

এমসিকিউ অংশ ও লিখিত অংশে পাশ করলে এবার দেখা হবে মোট অংশে পাশ। উভয় অংশে যদি তুমি ১০০ এর মধ্যে ৪০ পাও তবেই তোমাকে সম্পূর্ণ পাশ বলে গণ্য করা হবে। নয়তো তুমি ফেইল।

তবে বলে রাখি, ৪০ নাম্বার তুললে কিন্তু চান্স পাওয়ার আশা নেই। তোমাকে ৫০% এর অধিক নাম্বারের বেশি পেতে হবে। সেক্ষেত্রে তুমি চান্স পাওয়ার একটি আশা রাখতে পারো। ক ইউনিটে ওয়েটিং অনেক দূর পর্যন্ত যায়, তাই নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে।

আরো পড়ো

উপরের লেখাটি পড়ে তুমি বুঝতেই পেরেছো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাশ তোলা নিয়েও অনেক শর্ত রয়েছে। কোনো শর্তের বাধায় পড়লেই কিন্তু তোমার চান্স পাওয়াটা আটকে যাবে। হতাশার কিছু নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাশ নাম্বার তোলা কিন্তু আহামরি কিছু না। শুধু থাকতে হবে দৃঢ় প্রত্যয় ও সৎ প্রত্যয়। শুভ কামনা।

Leave a comment